**** ____ আজকের আগুনরঙা কৃষ্ণচূড়ার অম্লান ভালবাসা শুধুই তাদের জন্য ___****
প্রিয়.. অ ….।
নিষ্ঠুর আমি !করস্পর্শে বলি আনুরাগে মুর্ছা যাবে যাও । মিথ্যে আশা করো না । হেলাল হাফিজের মত করে বলি “আমি আর কতোটুকু পারি ? ” ও হ্যাঁ বসন্ত আমার প্রিয় সেটা জানলে ও জানো না কেন প্রিয় ! সেটা আর যাই হোক গোধূলীর পর ধূলো উড়িয়ে ঊষা চলে আসলেও জানবে না কোনদিন । সারাদিনের পরিশ্রান্ত যুবকটি ও যখন দিন শেষে ঘরে ফিরে শূন্য বারান্দার দিকে ফিরেও থাকায় না । সে জানেই না সেই বারান্দাই তাকে ঘর আর বাহিরের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করা শিখিয়েছে । এ এক অদ্ভূত শৈল্পিক ধূসর শূন্যতা যা সেই বারান্দা ছাড়া আর কেউ জানে না । আজ কিছু কটু সত্য কথা বলি শোন – ভাল লাগার মানে যাকে ভাল লাগে তার সবকিছুই ভাল লাগে সেটা না ! তাহলে তুমি চিহ্ন বিদগ্ধতায় অমানবিক ভাঙ্গনের চিহ্ন ছাড়া কিছুই পাবে না । শোন -শামসুর রাহমান আমার প্রিয় তো ননই বরং উনাকে আমার ভাল লাগে নি কখনোই ! কিন্তু তিনি যখন বলেন?
“বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতায়
বর্ষীয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে ।”
তখন দুষ্টু চঞ্চলতা আর অপরাধবোধ কাফনে ঢেকে যায় সব । বলি আরে এটাই তো ভালবাসা । হ্যাঁ । কবিকে ভাল লাগে নি । কবিতা লেগেছে ! বোন তার ভাইয়ের জন্য প্রতীক্ষা করতে করতে অল্প কিছু নুডুলস আলগা করে রেখেছে। সেটাই প্রেম , আদর মাখানো অশেষ ভালবাসা । ভাই , তার বোনের জন্য সারা দিন হেঁটে হেঁটে একটি মাত্র নাক ফুল কিনেছে ! সেটাই ভালবাসা । অনাকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের তাগিদে মা বারবার ঘুমো ঘুমো আঁখি নিয়ে পাশে বসে থাকেন আর মাঝরাত বলে উঠেন বাবা উঠ ?আর পড়তে হবে না ! একটু ঘুমিয়ে নে? কাল না সকালে পরীক্ষা ? এটাই মায়া,এটাই প্রেম ,এটাই ভালবাসা ।
বাবা ! সারাদিনের পরিশ্রমের পরে অনুরণিত মৌনতা নিয়েই মুঠো ফোন হাতে নিয়ে কথা বলেছেন আঠারোতে পার দেয়া কিশোরকেও ! কিংবা বাসায় একটিমাত্র মুঠোফোন ! সেটাকেই বাসায় রেখে গিয়েছেন বাবা ! ১ টায় যে তার প্রিয় পুত্রের পরীক্ষা শেষ হবে ? সেটা তো কর্মস্থলে বসে ও জানতে হবে বাবার । হ্যালো ?? কে ? বাবা আমি । কিরে পরীক্ষা কেমন হয়েছে ? নৈর্ব্যক্তিক অংশ ভাল হয়েছো তো ? ছেলে বলছে জী আব্বু পঞ্চাশটাই হয়েছে ! ঠিক আছে বাবা । এখন খেয়ে ঘুমাও ! সংযোগ এখনো কাটে নি ! ওপাশ থেকে শোনাই যাচ্ছে বাবা গর্ব করে বলছেন আমার ছেলের সব হয়েছে ! শোন অবুঝেরা ? সেটাই প্রেম ! সেটাই ভালবাসা । অবাধ্যতার বাক্সবন্দী ছেলে তার বাবার জন্যে একটি পাঞ্জাবী কিনতে ১০ টি মার্কেট ঘুরেছে ! সেটাই প্রেম । সেটাই ভালবাসা । মেয়ে তার বাবার জন্যে অচেনা অস্পৃশ্য নিখুত সৌন্দর্যবোধ যত ? সব ঢেলে দিয়ে গরম কড়া লিকারের এক কাপ চা বানিয়েছে সেটা প্রেম । সেটাই ভালবাসা । দুঃখিত প্রিয়তমা সহস্র সহস্র বর্ষ গেলেও এই ভালবাসার কাছে বাকি সব তুচ্ছ । সব । আজ তাই ভালবাসা দিবসের মত একটি দিনের ভালবাসা আমি চাই না । সারা নিশি জাগিয়া মালা গাঁথা আর খুটিয়ে খুটিয়ে বছরের পর বছর যারা বীজ বুনেছেন স্বাচ্ছন্দ প্রেমের ? আমি তাদের ছেড়ে তোমায় বেশী ভালবাসতে পারবো না । তার চেয়ে বরং আমি বলি
” একলা আকাশ স্মৃতিপর্দার আড়ালে বলে, না বলা যত কথা ।
মৃত্যুরও পরে কিছু দিন যাবে ,নিষিদ্ধ যত মত !
দিনান্তের ক্লান্ত নতশির , যেমন দেখো হেলাল হাফিজের না বলা ব্যাথা ?
তুমি তাই দেখে নিও ? অতলান্তিকে বাক্সবন্দী আমার কথা আছে যত !”
আজ তাই আমি আমার জননীর সাথে ৫ মিনিটের খানিক আলাপন জুড়োতেই বেশী ভাল অনুভব করেছি ।কিন্তু লজ্জায় বলতে পারি নি । মা ভালোবাসি । সেখানে তোমায় কেমন করে বলি ? এ যে বড় বেশী অন্যায় ! একটু বেশী অমানবিক হে প্রিয়া ? অগ্নিগর্ভা কালের শপথ পারমিতা ! এ এক অন্য আমি । একেবারে কর্কশ রুমাণ্টিকতার বৈপরিত্যে এক জীবন্ত ক্রাচ ! কন্যা ! অশ্রুভারে স্তিমিত হবে না বর্ণহীন দাহে । তুমিও তাই করো । দেখবে সবচাইতে বেশী ভাল লাগবে তোমার । যেমন করে মেঘ- রোদ প্রেম চলে সঙ্গোপনে ?? তেমন করে ! পরিশেষে বলি অতি মানবীয় কিছু নই ,তবু অমানুষ যেন না হই ।সব উচ্ছ্বাস তার প্রতিই যেন হয় ?? সে স্রষ্টা ,মা,মাতৃভাষা আর মাতৃভূমি।,আজকের ভালবাসা সকল বাবা-মামা -ভাই-বোনদের জন্য । আজকের ভালবাসা সকল দেশমাতার সেরা সন্তানদের জন্যে । আজকের ভালবাসা সেই পথশিশুদের জন্য যে ফাগুনের প্রথম রাতটি ও কাটাচ্ছে অনাহারে ,অভুক্ত হয়ে আধো আধো ঘুম নিয়ে ফার্মগেটের ওভারব্রীজে । আজকের ভালবাসা শাহবাগের মোড়ে একটি গোলাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবুঝ কিশোরী শান্তার জন্যে । আজকের সব ভালবাসা ধানমণ্ডির লেইকে ঘুরে বেড়ানো ক্ষুধার্ত শিমুলের জন্যে । শোন আজকের সব ভালবাসা তাদের । দুঃখিত প্রিয়তমা সেখানের কোথাও তোমার জায়াগা দিতে পারি নি ! কোথাও না ! কি আর করবে বল ? জানোই তো আসলে কোথাও কেউ থাকে না ! আজ তুমি মৌনতা নিয়েই থাকো – আমি জানি আমার তখন কি বলা উচিৎ কিংবা আমি তখন কি বলবো ? “প্রথাগত প্রেম দিতে পারিনি বলেই কি
তোমার আজ এই মৌনতা ” । একবার মনে করে দেখ নিঠুর কালিয়া সোনা, গত নিশি কোথায় ছিলে ??
ইতি
——-( নি…)——
ধানমন্ডি ৩২, ঢাকা , বাংলাদেশ ।